খালেদা জিয়াকে আপসহীন নেত্রী উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আমি আমার রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়েছি। যার আদর্শে রাজনীতি করেছি, উজ্জীবিত হয়েছি এবং যার আদর্শ অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করেছি—তিনি আজ চলে গেলেন। তার এই প্রয়াণে দেশ ও দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে ২০ নভেম্বর আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখন তিনি জানতে চেয়েছিলেন, আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলো না কেন? আমি শুধু এটুকুই বলব।’
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং নিজের বহিষ্কারের ঘটনাটি একই দিনে ঘটাকে ‘সংকেতপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনই দল থেকে বহিষ্কারের আদেশ পাওয়া তার রাজনৈতিক জীবনের এক অদ্ভুত ও বেদনাদায়ক অধ্যায়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান রুমিন ফারহানা। এ সময় বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় রুমিন ফারহানা বলেন, রাজনীতিতে আপস না করে একা দাঁড়িয়ে যাওয়ার শিক্ষা তিনি খালেদা জিয়ার কাছ থেকেই পেয়েছেন। যার আদর্শে রাজনীতি করেছেন এবং যার স্নেহ ও আশ্রয়ে রাজনৈতিক জীবনে এত দূর এসেছেন, তার প্রয়াণের দিনেই নিজের বহিষ্কারকে তিনি নিছক কাকতালীয় মনে করেন না।
বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত এই নেত্রী বলেন, ‘আমার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া একধরনের আপসহীনতা—জোয়ারের বিরুদ্ধে একা দাঁড়ানো। এই শিক্ষা আমি আমার নেত্রীর কাছ থেকেই পেয়েছি। আপস না করে একা দাঁড়িয়ে যাওয়ার সাহস তিনি আমাকে শিখিয়েছেন।’
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে মঙ্গলবার রুমিন ফারহানাসহ নয়জন নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত নেতাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানার প্রত্যাশিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটপ্রার্থী ঘোষণা করেছে। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
