খালেদা জিয়া কিভাবে হয়ে উঠলেন মোহম্মদপুরের মেয়ে?

লেখাঃ কবি সোয়েব মাহমুদ

খালেদা জিয়া কিভাবে হয়ে উঠলেন মোহম্মদপুরের মেয়ে? এটা জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে সেইসব সত্তর -আশির দশকের শুক্রবার, সাদাকালো টিভির জীবন আর মহল্লা কালচারে।

স্বাধীনতার পর পর মোহম্মদপুর ছিল আওয়ামী ঘাটি। ৭৩ এর মাঝামাঝি পরিনত হয় এনার্কিস্ট ঘাটি মানে জাসদ থেকে শুরু করে ফ্রিডম পার্টি – কিংবা পুর্ব বাংলা সবারই বসবাস মোহাম্মদপুরে।
৮৫ সাল, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলছে তখন। প্রহসনের নির্বাচনে শেখ হাসিনা সঙ্গ দিলো এরশাদকে, এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় মোহম্মদপুরে। ১৯৮৬ সাল, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়।

এরপর একদিন খুব সাধারণ শাড়ি পরিহিত একজন নারী প্রবেশ করলেন মোহম্মদপুরে, এলাকার তরুণদের ( আতিক ভাই, হেলাল ভাই, সোহেল ভাই, জিন্নাহ মামা, বাবলু ভাই,সাব্বির ভাই) নিয়ে বসলেন। বসলেন মুরুব্বিদের সাথে। মোহম্মদপুর তখন লোকাল মহল্লা কালচারের পিতা দেশব্যাপি।
১৯৮৮ বন্যায় খালেদা জিয়া অমানুষিক পরিশ্রম করলেন, দিন নাই রাত নাই ছুটে বেড়ালেন মোহম্মদপুরের এ মাথা থেকে ও মাথা। মোহম্মদপুর তখন আজকের মতন এত ছোট নয়৷ এর সীমানা তখন শেরে বাংলা নগর থেকে সোবহানবাগ শুক্রাবাদ।

এদিকে ধানমন্ডি রায়েরবাজার আটি বাজার, ওদিকে শ্যামলী আদাবর।
ঢাকা -৯ মানে এখন মেইবি চারটা আসন ( ২০০৮ থেকে) এই বৃহৎ ঢাকা -৯ ( সাবেক) শেরেবাংলা নগর, মোহম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ মিলে।
একজন খালেদা জিয়া, গৃহবধূ থেকে সেনাপ্রধান এর স্ত্রী, প্রেসিডেন্টের স্ত্রী থেকে বিএনপি নামক সদ্য গঠিত দলের প্রধান। শুধু পায়ে হেঁটে একটা সন্ত্রাসপ্রবণ কালচারাল একদম ” র ” লোকাল মহল্লা কালচারের চারণভূমিতে গিয়ে হয়ে উঠলেন তাদের কন্যা। দখল করলেন হৃদয়। মানুষ তাকে ফেরায় নি। ৯১ এর নির্বাচনে মোহম্মদপুরের মানুষ তার মেয়েকে উপহার দেয় ঢাকা -৯। অপরদিকে হাসিনা পুরান ঢাকায় হেরে যায় সাদেক হোসেন খোকার কাছে। হ্যাঁ ঠিক পড়ছেন ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে মোহম্মদপুরে মানে ঢাকা ৯ আসনের এমপি ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

গতকাল খালেদা জিয়া মারা যাওয়ার পর থেকে মোহাম্মদপুরের মানুষের বিমর্ষ মুখ দেখতে পারতেসি। হ্যাঁ মোহম্মদপুরের মানুষের অনেক অভিযোগ তাদের মেয়ের প্রতি, কিন্তু তাদের মেয়ে সময় পেলেই ফিরে ফিরে এসেছে মোহম্মদপুরে। এই যে দেখেন তাদের মেয়ে এখন চির শায়িত হবে তাদের এখানেই জিয়া উদ্যানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *