তারেক রহমান যদি বলে, তারপরই চুল কাটাব: বিএনপির সমর্থক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড় জমেছে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায়। এই ভিড়ের মধ্যেই চোখে পড়েছেন বিএনপির পরিচিত ‘ক্ষ্যাপাটে’ সমর্থক রিকশাচালক আনোয়ার পাগলা। প্রিয় নেতার আগমন উপলক্ষে তার উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা সবার নজর কাড়ে। নেচে-গেয়ে এবং স্লোগান দিয়ে উপস্থিত মানুষকে উৎসাহ দিতে দেখা যায় তাকে।

দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিএনপি ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর পূর্বাচলে তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফলে আগের দিনই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ছোট ছোট মিছিল, স্লোগান ও গান-পদ্যে মুখর হয়ে উঠেছে আশপাশের এলাকা।

‘মা, মাটি ডাকছে—তারেক রহমান আসছে’, ‘তারেক ভাই বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘তারেক রহমান ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’—এমন নানা স্লোগানে সংবর্ধনাস্থলজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।

সংবর্ধনা মঞ্চের সামনে নিজের রিকশার ওপর দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে ও গান গাইতে দেখা যায় আনোয়ার পাগলাকে। তিনি সময় সংবাদকে বলেন, “মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে এখানে এসেছি। নেতাকে একবার চোখে দেখে তারপর যাব। আমার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। মানুষ আমাকে তিন নামে চেনে—আনোয়ার পাগলা, বিএনপির পাগলা আর আনোয়ার পাগলা রিকশাচালক।”

চুল কাটা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। লাখ লাখ মানুষ তাকে দেখার জন্য এসেছে। কাল সরাসরি নেতার সঙ্গে কথা হবে কি না জানি না। তবে কোনোদিন যদি তার সঙ্গে দেখা করে কথা বলার সুযোগ পাই এবং নেতা যদি বলেন, তারপরই চুল কাটাব।”

তারেক রহমানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে আনোয়ার বলেন, “তার বক্তৃতা আমার খুব ভালো লাগে, হৃদয় ছুঁয়ে যায়। হাসিনার আমলে ১৭ বছর অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি, অনেক ব্যথা পেয়েছি। তারপরও বিএনপির সঙ্গেই ছিলাম। বিএনপি ও তারেক রহমানকে ভালোবাসি। তাদের ছবি ফ্রেম করে গলায় ঝুলিয়ে রেখেছি।”

কাজ ফেলে সংবর্ধনাস্থলে অবস্থান করলে আয়-রোজগারে কোনো সমস্যা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মাত্র তিন দিন। নেতার জন্য ১০ দিন রিকশা না চালালেও কোনো সমস্যা নেই। আমার পরিবারেরও কোনো অভিযোগ নেই। আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খেলেই তারা খুশি থাকবে।”

প্রসঙ্গত, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছিলেন। তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান কয়েকবার দেশে এলেও দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে পারেননি তারেক রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *