রাকসু জিএসকে ৩০ মিনিটে ক্যাম্পাস থেকে বের করতে সক্ষম: ছাত্রদল নেতা

রাকসু জিএসকে ৩০ মিনিটে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল নেতার, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তাপ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত স্বাগত মিছিল–পরবর্তী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার এ বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

সমাবেশে বক্তব্যে ছাত্রদল নেতা শাকিলুর রহমান বলেন, “গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিন অফিসে তালা দেওয়া হয়েছে। এমনকি উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অফিসেও তালা দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুস্থ রাখতে এর প্রতিবাদে ছাত্রদল একটি বিবৃতি দিয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানিয়েছে। অথচ রাকসুর কতিপয় ফুটেজখোর নেতা আমাদের ওই বিবৃতির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন।”

সালাহউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের সঙ্গে লাগতে আসবেন না। পুরো রাজশাহীর দরকার নেই, শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলই ৩০ মিনিটের ব্যবধানে আপনার মতো ফুটেজখোর সালাহউদ্দিন আম্মারকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিতে সক্ষম—সক্ষম, সক্ষম।”

শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের বৈঠক এবং ছাত্রদল নেতার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আল্টিমেটাম দিলাম—আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে ঢুকলে জোহা চত্বরে বেঁধে রাখবো। এতে ক্যাম্পাসের ছাত্রদল ও বিএনপি ক্ষুব্ধ হয়েছে। ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ একই ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে। বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা ভিসির কাছে নালিশ করেছেন যে তারা নাকি ক্যাম্পাসে আসতে ভয় পাচ্ছেন। বললাম, লীগকে ভয় পায়, আর বিএনপির শিক্ষকরা ভয় পায়!”

ছাত্রদল নেতা শাকিলুর রহমানের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সালাহউদ্দিন আম্মার আরেকটি স্ট্যাটাসে লেখেন, “ছাত্রদলের এক চাচা আজ ঘোষণা দিয়েছে—৩০ মিনিটে তালা মেরে দেবে। চাচা শুনেন, মন দিয়ে শুনবেন—২০০৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত কুকুর–বিড়ালের মতো পড়ে থেকে এই ক্যাম্পাসের বোঝা হবো না। একদিন থাকলে থাকার মতো করেই থাকবো। আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের উৎখাতে কাজ করবো। সাহস থাকলে আসেন, চান্দাভাই।”

এদিকে সোমবার দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল একটি স্বাগত মিছিলের আয়োজন করে। দুপুর দেড়টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘মা মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’, ‘তারেক রহমান বীরের দেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘তারেক রহমান ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “বাংলার বাতাসে যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ ছিল, তা উপেক্ষা করে বাংলার গণমানুষের শক্তির ওপর ভর করে দীর্ঘ ১৮ বছর পর জননেতা তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। দেশের মানুষের কল্যাণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করাই তার এই প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য। ২৫ ডিসেম্বরের পর যারা মব সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *