ধর্মের নামে মানুষ হত্যা, এর মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদকে সার্ভ করছে: জাহেদ উর রহমান

ময়মনসিংহে এক সংখ্যালঘু শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা এবং পরে তার মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট জাহেদ-উর রহমান।

তিনি বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ, যেখানে ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, আর এর মাধ্যমে সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে সার্ভ করা হচ্ছে।

জাহেদ-উর রহমান বলেন, কারও বিরুদ্ধে শুধু ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগ’ তুললেই তাকে হত্যা করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ। এখানে কোনো তদন্ত নেই, কোনো আদালত নেই, কোনো আইনের প্রয়োগ নেই—সবকিছুর জায়গা দখল করে নিয়েছে মব। সেই মবই এখন বিচারক ও জল্লাদ হয়ে উঠেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি একটি কারখানার শ্রমিক ছিলেন এবং তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য। কারখানার ভেতরে এক সহকর্মীর অভিযোগের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে তাকে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। মৃত্যুর পরও ক্ষোভ প্রশমিত না হওয়ায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাহেদ-উর রহমান। তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বাড়ছিল, কারখানার ফটক ভাঙার চেষ্টা হচ্ছিল—সে সময় পুলিশ ও প্রশাসন কোথায় ছিল? এটা কি শুধু ব্যর্থতা, নাকি নীরব সম্মতি?”

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একজন ব্যক্তির মরদেহ কবর থেকে তুলে এনে পেটানো ও আগুন দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। তার প্রশ্ন, সেই ঘটনার পর কী হয়েছে? অপরাধীরা কি শাস্তি পেয়েছে? না। সেখান থেকেই মব বুঝে গেছে—তারা পার পেয়ে যাবে।

জাহেদের মতে, এই সহিংসতা ইসলামের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী হলেও তা ইসলামের নামেই ঘটানো হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মুসলমানদের জন্যই ভয়ংকর। ইসলাম এই ধরনের বর্বরতা সমর্থন করে না। কিন্তু এসব কাজ যখন ইসলামের নামে করা হয়, তখন বিশ্বজুড়ে ইসলাম নিয়ে ঘৃণা ও ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একজন হিন্দু নাগরিককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার প্রতিটি ঘটনা ভারতের হিন্দুত্ববাদী মিডিয়ার জন্য ‘সোনার খনি’। তারা এসব ন্যারেটিভের অপেক্ষায় থাকে। যারা নিজেদের ‘তৌহিদি জনতা’ বলে পরিচয় দিচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশ জেনে বা না জেনে মোদির এজেন্ডার সৈনিক হিসেবে কাজ করছে।

আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন জাহেদ-উর রহমান। তবে তিনি বলেন, এই রক্তপাত, সহিংসতা ও ভয় দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি ভয়ংকর অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে।

শেষে তিনি বলেন, “আমি কোনো আশার কথা বলছি না। বলছি ইতিহাসের জন্য। যেন ভবিষ্যতে কেউ বলতে না পারে—আমরা জানতাম না। এটি এক ধরনের ডায়েরি, যেখানে লেখা থাকবে—এই সময়ে রাষ্ট্র নীরব ছিল, আর মবই কথা বলেছিল।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *