দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার মিঞা মো. আকবর আজিজী বলেছেন, আগামী নির্বাচনের পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা নেবেন, তা জনগণই নির্ধারণ করবে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত লোককে পার্লামেন্টে পাঠিয়ে ভালো সরকার কেন আশা করেন?”
রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক কমিশনার বলেন, ভালো সরকার পেতে হলে দুর্নীতিমুক্ত মানুষকে নির্বাচিত করতে হবে। জনগণের মূল্যবান ভোট যেন অপাত্রে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
আকবর আজিজী আরও বলেন, নির্বাচনের সময় মানুষকে বাছাই করে নিতে হবে। প্রার্থী আগে সরকারি চাকরিজীবী বা শিক্ষক ছিলেন কি না, তা মুখ্য নয়; বরং তার সততার সুনাম আছে কি না, কিংবা কর ফাঁকির মতো কোনো দুর্নাম রয়েছে কি না—সেগুলো বিবেচনা করতে হবে। এসব অভিযোগ না থাকলে ভালো মানুষকেই পার্লামেন্টে পাঠানো উচিত। তবেই ভালো সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার সমুন্নত থাকবে।
দুর্নীতির বিস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আগে যেমন বলা হতো—শালগাছ যতটা উঁচু, তার শিকড়ও ততটাই গভীরে—দুর্নীতিও এখন তেমনি গভীরে প্রোথিত। ছোটখাটো উদ্যোগে এটি উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। তবে অসম্ভব ভেবে ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নও নেই; দুদক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দুদক কমিশনার আরও জানান, কমিশনের ভেতরে যদি কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাদের ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ড. মোমেন কমিশনের অধীনে ডিএডি থেকে শুরু করে পরিচালক পর্যায় পর্যন্ত যার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
