লুটপাটে বিধ্বস্ত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এখন মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত

ইতিহাসের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চারঘাট উপজেলার শহীদ শিবলী চত্বরের পাশে নির্মাণ করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাদুঘরটিতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা জাদুঘরটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯–২০ অর্থবছরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাদুঘরটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর ২০২৩ সালের জুলাই মাসে জাদুঘরটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জাদুঘর চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, মূল ভবনের দরজা ও জানালা, লোহার গ্রিল, লাইট, ফ্যানসহ সব ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম লুট হয়ে গেছে। পানির পাম্প, বেসিন এমনকি টয়লেটের দরজাও নেই। জাদুঘরের ভেতরে সংরক্ষিত মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ বিভিন্ন ছবি মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। সেখানে নিয়মিত মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়। মূল ফটকের সামনে কাঠের স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও চারঘাট উপজেলার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ইয়াসিন আলী বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পর সরকার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও গৌরব রক্ষার জন্য জাদুঘরটি নির্মাণ করে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সব আসবাব ও সরঞ্জাম চুরি হয়ে যায়। বর্তমানে জাদুঘরটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাইফুল ইসলাম রায়হান বলেন, এই জাদুঘরের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম চারঘাটের মানুষের ত্যাগ ও ইতিহাস জানতে পারত। কিন্তু এখন এটি মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

চারঘাট উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার বলেন, নির্মাণ শেষে জাদুঘরটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর ভবনটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সব সরঞ্জাম লুট হয়ে যায়। বর্তমানে জাদুঘরটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির একটি তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, জাদুঘরটির সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুব দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *