হামলা নিয়ে প্রথম আলোর বক্তব্য

প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে বলা হয়- ‘অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো কার্যালয় একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। হামলার সময় কার্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা একদিকে অনলাইন সংবাদপোর্টালের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, অন্যদিকে ১৯ ডিসেম্বরের পত্রিকা প্রকাশের প্রস্তুতিতে নিয়োজিত ছিলেন। এই হামলার ফলে প্রথম আলো-এর কর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে যান এবং তাঁদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে।

হামলাকারীরা প্রথমে কার্যালয়ের ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পরে সেখানে অগ্নিসংযোগ করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অগ্নিকাণ্ডে ভবনের বড় একটি অংশ পুড়ে যায় এবং সেখানে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও মূল্যবান নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়।

কার্যালয়ে হামলার আশঙ্কা দেখা দেওয়ার পর প্রথম আলো-এর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা কার্যালয়ে আক্রমণ চালায়। প্রাণরক্ষার তাগিদে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীরা কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দমকল বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই সন্ত্রাসী হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ফলে প্রথম আলো প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরের ইতিহাসে—সংবাদপত্র-জনিত ছুটি ছাড়া—এই প্রথম পত্রিকাটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। একই কারণে প্রথম আলো অনলাইন-এর কার্যক্রমও দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

একই রাতে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ও সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, শরিফ ওসমান হাদির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এসব হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের জন্য এটি ছিল এক গভীরভাবে কলঙ্কিত দিন। এসব ঘটনার মাধ্যমে শুধু আসন্ন নির্বাচনকে ভিন্ন পথে প্রবাহিত করার অপচেষ্টাই চালানো হয়নি, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই সন্ত্রাসী হামলা গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারের ওপর সরাসরি ও সুস্পষ্ট আঘাত। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

আমরা যথাসম্ভব দ্রুত প্রথম আলো অনলাইন-এর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করব। আগামীকাল থেকে নিয়মিতভাবে পত্রিকাও প্রকাশিত হবে। সব সময়ের মতো আমরা প্রথম আলো-এর পাঠকদের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *