কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ছেলের মারধরে কালা মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিহত কালা মিয়া সাবরাং ইউনিয়নের বাসিন্দা। অভিযুক্ত দুই ছেলে হলেন শাকের আলম ও মনিরুল আলম।
সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় টেকনাফ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই কালা মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালা মিয়ার স্ত্রীর পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই ছেলের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। অভিযুক্ত দুই ছেলে জমিটি নিজেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। তবে কালা মিয়া জানিয়েছিলেন, তাদের মায়ের সম্পত্তি সব ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পরই জমি বিক্রি করা হবে। এতে রাজি না হওয়ায় দুই ছেলে বাবাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের বড় মেয়ে এলম বাহার বলেন, “আমার ভাই মনিরুল আলম গতকাল বাবাকে তার শ্যালিকার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখে। আমরা সারাদিন বাবাকে খুঁজে পাইনি। রাত ১২টার দিকে বাবাকে বেহুঁশ অবস্থায় পাই। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সামান্য জমির লোভে আমার ভাইয়েরা বাবাকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।”
নিহতের স্ত্রীও অভিযোগ করে বলেন, “আমি আমার বাবার অংশ থেকে কিছু জমি পেয়েছি। সেই জমি বিক্রির জন্য কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ নিয়ে আমার দুই ছেলে কয়েকবার আমাকে হত্যারও চেষ্টা করেছে। তারা জমি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করানোর জন্য তাদের বাবাকে তুলে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ জানান, মায়ের জমির ভাগ নেওয়া নিয়ে কালা মিয়ার ছেলেরা প্রায়ই বাড়িতে এসে বাবার সঙ্গে ঝগড়া করত। বিষয়টি নিয়ে আগে বড় মেয়ে তাকে জানিয়েছিলেন। তিনি ছেলেদের ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এরপরও গত দুই দিন ধরে তারা বাবাকে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ছেলে মিলে তাদের বাবাকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
