রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, নারী ক্ষমতায়নের ভিত্তি স্থাপন করেন জিয়াউর রহমান, আর সেই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করেন খালেদা জিয়া।
রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন–এ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস–২০২৬’ উদযাপন ও ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নারী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে প্রথম নারী বিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে বেগম খালেদা জিয়া এই মন্ত্রণালয়কে সম্প্রসারণ করে বর্তমান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তর করেন। জিয়াউর রহমান যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেটিকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী রূপ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেন। নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে তিনি মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করেন। নারী শিক্ষার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। বিশ্বব্যাংক–সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এটিকে তৃতীয় বিশ্বের একটি সফল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকারও নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আগামী ১০ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে জেনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্র ও সমাজে নারীর অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। এই বিশাল নারী শক্তিকে রাষ্ট্র ও সমাজের মূলধারা থেকে দূরে রেখে জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জন কখনোই সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর অমর বাণী স্মরণ করেন—
“বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”
