ইরানে ইউরেনিয়ামের মজুদ জব্দের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ জব্দ করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে অবগত অন্তত চারটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদকে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের কাছে প্রায় ৪৫০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অস্ত্র-মানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতাকে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করতে চান বলেও দাবি করা হচ্ছে।

তবে এই উপাদান জব্দ করার যেকোনো অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সেনাদের সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে হবে। যুদ্ধ চলাকালে অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় অভিযান চালানো বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য এই মিশন যুক্তরাষ্ট্র একাই পরিচালনা করবে নাকি এতে ইসরায়েলও অংশ নেবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কংগ্রেসে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করার সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কেউ না কেউ সেখানে গিয়ে এটি নিয়ে আসতে হবে।” তবে কে সেই কাজটি করবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।

একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দল নির্দিষ্ট কিছু মিশনের জন্য ইরানে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিট পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসন অন্তত দুটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছে। এর একটি হলো ইরান থেকে পুরো ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া, আরেকটি হলো পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের সেখানে পাঠিয়ে ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া বা ‘ডাইলিউট’ করা।

সম্ভাব্য এই মিশনে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পারমাণবিক বিজ্ঞানীরাও থাকতে পারেন। এমনকি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বিশেষজ্ঞরাও এতে যুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগেই ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপিত বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনার তালিকায় এ ধরনের অভিযানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *