সিলেটে চুরি করা গরুর মাংস দিয়ে ইফতার মাহফিল!

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় মাঠ থেকে চুরি করা একটি গরু জবাই করে সেই মাংস দিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজনের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়ন-এর গলমুখাপন গ্রাম-এ ঘটেছে।

জানা গেছে, ইফতারের জন্য গরু কেনার টাকা দেওয়ার পরও কেয়ারটেকারের এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত হয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আহমদ মধু দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তিনি শুক্রবার রাতেই যুক্তরাজ্য-এর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গলমুখাপন গ্রামে আয়োজিত ওই ইফতার মাহফিলে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক রোজাদার অংশ নেন। তবে ইফতারে ব্যবহৃত মাংসটি চোরাই গরুর—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলমুখাপন গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইউনাইটেড গলমুখাপন ট্রাস্ট-এর উদ্যোগে আজাদ আহমদ সাদ মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজাদ আহমদ সাদ মিয়া, প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আহমদ মধু এবং সাধারণ সম্পাদক বুরহান মিয়া আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন।

ইফতারের আগের দিন একই গ্রামের নাজমুল ইসলাম-এর একটি গরু পার্শ্ববর্তী মাঠ থেকে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও গরুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আহমদ মধু ইফতারের জন্য তার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদী-কে তিনটি গরু কেনার টাকা দেন। কিন্তু তিনি গরু না কিনে নাজমুল ইসলামের হারিয়ে যাওয়া গরুটি মাঠ থেকে ধরে এনে জবাই করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গ্রামবাসীরা প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে কৈফিয়ত চান। পরে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইফতারের জন্য জবাই করা গরুটি আসলে নাজমুল ইসলামেরই ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আহমদ মধু তাৎক্ষণিকভাবে গরুর মালিককে নগদ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করে সমাধান করেন।

এরপর তিনি নিজে এ ঘটনায় জড়িত নন দাবি করে একটি ভিডিও ধারণ করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক-এ ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা দেখা যায়। এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কেয়ারটেকার সাঈদী পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, আহমদ মধু এলাকায় একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তবে তার কেয়ারটেকারের এমন কর্মকাণ্ডে তিনি ও তার পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।

এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানা-র অফিসার ইনচার্জ মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *