মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলাতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)–এর অধীনে নির্মাণাধীন একটি সড়কের গাইডওয়ালে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শক্ত মাটি বা কংক্রিটের বিম নির্মাণ না করে গাইডওয়ালের নিচে আস্ত কলাগাছ রেখে তার ওপর ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের নজরে বিষয়টি আসার পর তারা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়ন–এর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাকইর চৌরাস্তা মোড়ে।
শিবচর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণকাজ ছয় মাস আগে শুরু হয়। শুরু থেকেই কাজের গতি ধীর ছিল। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি মাটির ওপর কলাগাছ রেখে তার ওপর ইটের গাঁথুনি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকার এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক ব্যবহার করে কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। গাইডওয়ালের নিচে কলাগাছ ব্যবহারসহ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার আলমগীর জমাদ্দার জানান, তাকে এ বিষয়ে আগে কেউ অবহিত করেনি। যে রাজমিস্ত্রি কাজটি করেছেন, তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন এভাবে কাজ করা হয়েছে। তবে তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি বলে দাবি করেন ঠিকাদার। তিনি আরও বলেন, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী গুণগত মানসম্পন্ন এবং কলাগাছ সরিয়ে সঠিক নিয়মে নতুন করে কাজ করা হবে।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী জামাল শিকদার বলেন, ‘নির্বাচনের পর অফিস খোলার পর ওই স্থানে আর যাওয়া হয়নি। গাইডওয়াল নির্মাণের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়নি। এ সুযোগে অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। কলাগাছ সরিয়ে নতুন করে কাজ করানো হবে।’
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, ‘শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সরকারি কাজে এ ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
