বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ না হলে বাংলাদেশ আরেকটি অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, সারা দেশে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যার ঘটনা ঘটছে; পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও লুটপাট চালানো হচ্ছে। এসব সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা নির্বাচনের ম্যানিপুলেশন, অনিয়ম এবং পরবর্তী সহিংসতার মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ফলাফল ঘোষণায় যে অনিয়ম হয়েছে, তা নিয়ে কোনো টালবাহানা না করে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অনিয়মপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে হামলা চালানো আমাদের আবারও ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদ অনুযায়ী অনেক কেন্দ্রে ‘না’ ভোট ও ধানের শীষের ভোট সমান হয়েছে। তারা ‘না’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। অথচ নির্বাচনের পর কিছু পেইড বুদ্ধিজীবী বলছেন, সরকার জনগণের রায় মানতে বাধ্য নয়। ফ্যাসিবাদের মতো কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে যদি জনরায় অমান্য করা হয়, তবে তাদেরও ফ্যাসিবাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, টিম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান এমপি, মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, বাগেরহাট জেলা আমির মাওলানা রেজাউল করীমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
