জামায়াতের আট ইসলামী দলের কর্মীদের মসজিদ থেকে বের করে দিলেন মুসল্লিরা

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট ইসলামী দলের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ নগরীর ডিআইটি মসজিদে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মুসল্লিদের একাংশের সঙ্গে ওই দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মুসল্লিরা সংশ্লিষ্ট কর্মী-সমর্থকদের মসজিদ থেকে বের করে দেন। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ইমামের বক্তব্য চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

ডিআইটি মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল আউয়াল হেফাজতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির। জুমার খুতবার আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী আট দলের তীব্র সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আট দল মিলিয়ে আপনারা কি ইসলামী হুকুমত কায়েম করে ফেলবেন? সেক্যুলারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কোনো দিন ইসলাম কায়েম সম্ভব হবে না।’

তিনি আরও দাবি করেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে। একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার নাম উল্লেখ করে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আগামী দিনে তারা এই দেশে বন্দুক নিয়ে আসবে। আলেম-ওলামারা যারা এ দেশকে ইসলামী রাষ্ট্র বানাতে চায়, তাদের বন্দুকের আওতায় নিয়ে আসবে।’

ইমামের এসব বক্তব্যের সময় মসজিদের ভেতরে উপস্থিত কয়েকজন চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থক প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করেন। এতে মাওলানা আব্দুল আউয়ালের অনুসারীদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মসজিদের ভেতর হট্টগোল বেধে যায়। পরে মুসল্লিদের একাংশ ওই কর্মী-সমর্থকদের মসজিদ থেকে বের করে দেন।

পরবর্তীতে ওই আট ইসলামী দলের উদ্দেশে আরও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল আউয়াল। তিনি বলেন, ‘আপনারা বিএনপির কাছে দৌড়াচ্ছেন কেন? লন্ডনে কেন গেছেন? অনেকে মনে করছেন, ইসলাম কায়েম করেই ফেলেছেন—এটা আলাদ্দিনের চেরাগ নাকি? কীভাবে চেষ্টা করছেন? ব্যাংক ঠিক রেখে, সুদ ঠিক রেখে, জুয়া ঠিক রেখে, নারীদের বেপর্দা রেখে কি ইসলাম কায়েম হবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সত্যিকার ইসলাম চাই, মদিনার ইসলাম চাই। এভাবে ভাগাভাগি করে, সমঝোতা করে আল্লাহর নবী (সা.) কখনো ইসলাম কায়েম করেননি। তিনশ জনের মধ্যে ভাগ করে একশ এই দলকে, একশ ওই দলকে দেওয়ার এই টানাহ্যাঁচড়ার মানে কী? সেক্যুলারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কোনো দিন ইসলাম কায়েম সম্ভব নয়।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক চলবে, সুদ চলবে, জেনা চলবে, বাউল চলবে—তাহলে তারা সহযোগিতা করবে। আর এগুলোর বিরুদ্ধে কথা বললে চোখ তুলে ফেলবে। ইসলাম কায়েম করতে চাইলে পুরোপুরি করেন। তাহলে এ দেশের নব্বই ভাগ মানুষ আপনাদের সঙ্গে থাকবে।’ মাওলানা আব্দুল আউয়ালের এই বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজেও পোস্ট করা হয়েছে।

নামাজে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুসল্লি জানান, বক্তব্যের একপর্যায়ে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামীর তিন থেকে চারজন সমর্থক প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন মসজিদের ভেতরই হট্টগোল শুরু হয় এবং পরে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল রাতে ডিআইটি মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল আউয়ালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘মাওলানা আব্দুল আউয়াল প্রায়ই মসজিদের ভেতরে রাজনৈতিক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন। আজ আমাদের একজন কর্মী মমিন মিয়া এর প্রতিবাদ করেছেন। আমরা মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন সাহেবকে জানিয়েছি, খতিব সাহেব যেন মসজিদের ভেতরে রাজনৈতিক বক্তব্য না দেন।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমাদ বলেন, ‘আমি এখনো বিষয়টি বিস্তারিত জানি না। তাঁর বক্তব্য শুনে তারপর মন্তব্য করব।’

ডিআইটি মসজিদ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *