শেখ হাসিনার ভয় এখনও সবার ভেতরে: নিপুণ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন নির্মাতা আশফাক নিপুণ। তিনি দাবি করেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ সময় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, হাদির মৃত্যুকে ইস্যু করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে।

এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিস্ফোরক পোস্ট দেন ‘মহানগর’ খ্যাত নির্মাতা আশফাক নিপুণ। তিনি লেখেন, ‘সবকিছুই আসন্ন নির্বাচন বানচালের ধান্দা। কেউ প্রকাশ্যে নির্বাচন চায় না, কেউ মুখে চায় বললেও বাস্তবে চায় না, আবার কেউ ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচনের কথা বললেও রাজধানীতেই মব সামলাতে ব্যর্থ।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে নিপুণ আরও লেখেন, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেও তাঁর নির্বাচনভীতি দেশ ছাড়েনি। সেই ভয় এখনো সবার ভেতরে বসে আছে এবং নীরবে কাজ করে যাচ্ছে।

পোস্টে নির্মাতা শরিফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন। তিনি লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার অবশ্যই হতে হবে। তবে যে মানুষটি একটি নির্বাচন বাস্তবায়নের জন্য দিনের পর দিন কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেঁটেছেন, ময়লা পানি গায়ে মেখে হাসিমুখে প্রচারণা চালিয়েছেন— অন্তত সেই ত্যাগের সম্মান রাখা উচিত।’

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত মারা যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *