দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমান। পোস্টে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বাবা আজ কিছুক্ষণ আগে ট্রাভেল ডকুমেন্ট হাতে পেয়েছেন।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ১৮ বছর লন্ডনে অবস্থানের পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। এ উপলক্ষে তিনি বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেন। পরদিন শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) তিনি সেই ট্রাভেল পাস গ্রহণ করেন।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার জানান, তারেক রহমান মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় ফিরবেন। ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টার পর তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে তার দেশে ফেরা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। গত ২৩ নভেম্বর তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ার পর তিনি জানান, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয়নি। তবে ১২ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান।
এরই মধ্যে তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে একটি অভ্যর্থনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। পরে জানানো হয়, বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য আয়োজনস্থল নির্ধারণে যাচাই-বাছাই চলছে।
সমাবেশ প্রসঙ্গে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক জনসমাগমের প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তারেক রহমান ১৮ মাস কারাবন্দি ছিলেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
