রিমান্ড দিলে যেকোনো সময় হার্ট অ্যাটাক করতে পারি: নজরুল ইসলাম মজুমদার

নজরুল ইসলাম মজুমদারের পক্ষে তার আইনজীবী সাদেকুর রহমান তমাল রিমান্ড আবেদন বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতে বলেন, “এজাহারে তার নাম নেই। সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আন্দোলনের সময় তিনি দেশে ছিলেন না। অভিযোগ করা হয়েছে তিনি অর্থ সহায়তা দিয়েছেন—কিন্তু কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় দিয়েছেন, তা এজাহারে উল্লেখ নেই। তিনি অসুস্থ ও বয়স্ক। রিমান্ড বাতিল করে প্রয়োজনে জেল গেইটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিতে পারেন।”

পরে আদালতের কাছে নিজে বক্তব্য রাখার অনুমতি চান নজরুল ইসলাম মজুমদার। অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, “আমি হার্টের রোগী। গত সপ্তাহে কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে টেস্টে হার্টে ব্লক ধরা পড়ে। আমার রাইট বান্ডেল পুরো ব্লকড। এ অবস্থায় রিমান্ডে নিলে আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ মাস ধরে জেলে আছি। অনেক মামলায় রিমান্ড হয়েছে। দুদকের দুই মামলায় রিমান্ড না দিয়ে জেল গেইটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রিমান্ডে নিলে আবার অসুস্থ হয়ে যেতে পারি।”

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, “আমি ইংরেজিতে অনার্স-মাস্টার্স করেছি। প্রয়োজনে আমাকে জেল গেইটে জিজ্ঞাসাবাদ করুন। রিমান্ডে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু রিমান্ডে নিলে যেকোনো সময় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই জেল গেইটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ করছি।”

তবে শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলশানের বাটার গলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন কামাল হোসেন সবুজ। পরবর্তীতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় গত ৭ জুলাই পুলিশ আওয়ামী লীগের ১০০–১৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *