ভারতের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আগামী ১৬ ডিসেম্বর কলকাতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড আয়োজিত বিজয় উৎসবে অংশ নেবে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। রোববার (৭ ডিসেম্বর) ফোর্ট উইলিয়াম (বিজয় দুর্গ) হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান ইস্টার্ন কমান্ডের মেজর জেনারেল ভানগুরু রঘু।
প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি প্রতিনিধি দল কলকাতার এই ঐতিহাসিক আয়োজনে যোগ দেবে। একইভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডও বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রতিনিধি দল পাঠায় বাংলাদেশে। দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা ও ঐতিহাসিক বন্ধন জোরদারে এই বিনিময় কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেললেও সেনাবাহিনীর যোগাযোগে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বড় একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল কলকাতার বিজয় দিবস উদযাপনে।
মেজর জেনারেল রঘু জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবছরও প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দলটিতে থাকছেন দু’জন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা, আটজন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারসহ মোট ২০ সদস্য। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকেও।
সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ১৪ ডিসেম্বর কলকাতায় পৌঁছাবে। বিমানবন্দরে তাদের গ্রহণ করবেন ইস্টার্ন কমান্ডের কর্মকর্তারা। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর তারা ব্যারাকপুরের মঙ্গল পান্ডে সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘মিলিটারি টাট্টু’ প্রদর্শনী দেখবেন এবং সেদিনই রাজভবনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে সকাল ও সন্ধ্যার বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠান, বিশেষ করে বিজয় স্মারকে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন মুক্তিযোদ্ধা ও সেনা সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, ইস্টার্ন কমান্ড প্রতি বছর ডিসেম্বরজুড়ে ‘বিজয় মাস’ উদযাপনের অংশ হিসেবে বিজয় র্যালি ও বাইক শোভাযাত্রাসহ নানান সামরিক–সাংস্কৃতিক আয়োজন করে। এসব আয়োজনে বাংলাদেশও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, এবং এবারও তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে।
